ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচী ২০২৫ ও ও ফলাফল প্রকাশের তারিখ ৪৯ তম বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস ও তারিখ ২০২৫ (ফলাফল আপডেটসহ) ২০২৫ সালে বিজ্ঞান থেকে কোন বিষয়ে অনার্স করা ভাল হবে মহানবী সাঃ এর জীবনী রচনা ১০০ শব্দ ও মহানবী সাঃ এর আদর্শ রচনা ১০০০ শব্দ বায়ু দূষণের ১০টি কারণ ও ফলাফল | বায়ু দূষণের ৫টি কারণ জেনে নিন সুমাইয়া নামের রাশি কি এবং সুমাইয়া নামের পিক পরিবেশ দূষণের ১০টি কারণ ও ফলাফল Pdf | পরিবেশ দূষণ কাকে বলে জেনে নিন জুলাই বিপ্লব ২০২৪ বাংলাদেশ রচনা ২০ পয়েন্ট ও ৩০ পয়েন্ট Hsc জেনে নিন জেনে নেই ভাষা আন্দোলন রচনা – ১৫, ২০ এবং ২৫ পয়েন্ট বিস্তারিত মারিয়া নামের রাশি কি | মারিয়া নামের মেয়েরা কেমন হয় 

বায়ু দূষণের ১০টি কারণ ও ফলাফল | বায়ু দূষণের ৫টি কারণ

Mohammad Joynal Hasan
  • আপডেট সময় : ০৭:৪০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বায়ু দূষণের ১০টি কারণ জানা জরুরী। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরও বায়ু দূষণের কারণ জানা আবশ্যক। কেননা, বিভিন্ন একাডেমিক পরীক্ষায় বায়ু দূষণের ১০টি/৫টি কারণ লেখ এমন প্রশ্ন আসে। 

তাই নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আজকের পোস্টে আমরা বায়ু দূষণের ১০টি কারণ উল্লেখ করার চেষ্টা করব। তাই আসুন, দেরি না করে মূল আলোচনা শুরু করি। 

বায়ু দূষণের ১০টি কারণ

বিভিন্ন কারণে বায়ু দূষণ হতে পারে। নিচে বায়ু দূষণের ১০টি কারণ ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলো। 

১. গাড়ি, বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ইত্যাদি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস থাকে।

২. কলকারখানায় জ্বালানি পোড়ানো এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত গ্যাস ও ধূলিকণা বাতাসে ছড়ায়।

৩. বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কয়লা বা ফসিল ফুয়েল পোড়ানো হয়, যা প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং পার্টিকুলেট ম্যাটার নির্গত করে।

৪. ইটভাটায় কাঠ, কয়লা বা টায়ার পোড়ানো হয়, যা পরিবেশে মারাত্মক ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ছাড়ে।

৫. বনভূমি ধ্বংস ও অগ্নিকাণ্ড বনজঙ্গল পুড়িয়ে ফেলা বা দাবানলে প্রচুর ধোঁয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয়।

৬. আবাসিক এলাকা ও রান্নার চুল্লি গ্রামাঞ্চলে কাঠ, ঘাস, গরুর গোবর ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।

৭. নির্মাণ কাজ ও ধুলাবালি, রাস্তা, ভবন নির্মাণ ইত্যাদির সময় অনেক ধূলিকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা বায়ু দূষণের একটি বড় উৎস।

৮. কৃষিকাজে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার এগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন করে।

৯. প্লাস্টিক, রাবার, কাপড় ইত্যাদি পোড়ালে ডাইঅক্সিন, ফিউরানসহ অনেক বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়।

১০. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ধুলিঝড়, পোলেন ইত্যাদিও বায়ু দূষণের কারণ হতে পারে, যদিও তা মানবসৃষ্ট নয়।

বায়ু দূষণের ৫টি কারণ

অনেক কারণেই বায়ু দূষণ হয়ে থাকে। একজন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে বায়ু দূষণের কারণ জানা জরুরী। তাই বায়ু দূষণের পাঁচটি প্রধান কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো। 

১. কল-কারখানা, বিশেষ করে ইটের ভাটা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সিমেন্ট কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ু দূষণের একটি অন্যতম প্রধান উৎস। 

২. যানবাহনের ইঞ্জিন থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে ক্ষতিকর গ্যাস, যেমন কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO 

2), নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সীসা কণা মিশিয়ে দেয়। বিশেষ করে পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়।

৩. তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গৃহস্থালীর কাজে কয়লা, পেট্রোলিয়াম, এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো হয়। এই দহনের ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস বাতাসে মিশে যায়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ।

৪. ব্যাপক হারে গাছপালা কাটা (বন উজাড়) এবং কৃষিজমিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর কারণে বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং অন্যান্য কণা পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এটি একদিকে বায়ুর ভারসাম্য নষ্ট করে, অন্যদিকে ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত করে বাতাসকে দূষিত করে।

৫. প্লাস্টিক, কাগজ, এবং অন্যান্য গৃহস্থালীর বর্জ্য খোলা স্থানে পোড়ানো হলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস নির্গত হয়। এই ধোঁয়ায় ডাইঅক্সিন এবং ফিউরান নামক অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা বাতাসের গুণগত মানকে চরমভাবে হ্রাস করে।

শেষ কথা 

আগেই বলেছি, বিভিন্ন কারণে বায়ু দূষণ হতে পারে। এর মধ্যে থেকে বায়ু দূষণের প্রধান প্রধান কারণ গুলো আজকের পোস্টে আমরা তুলে ধরেছি। 

আপনার কাছে যদি বায়ু দূষণের কারণ সমূহ জানা থাকে তাহলে আমাদের ব্লগে কমেন্ট করতে পারেন। যা আমাদের জন্য অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Mohammad Joynal Hasan

আমি Mohammad Joynal Hasan, লেখালেখি ও জ্ঞান ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। আমার ওয়েবসাইট Daily Bangla Tech-এ পড়াশোনা, চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নতুন খবর শেয়ার করি। সহজ বাংলায় সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।
ট্যাগস :

বায়ু দূষণের ১০টি কারণ ও ফলাফল | বায়ু দূষণের ৫টি কারণ

আপডেট সময় : ০৭:৪০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বায়ু দূষণের ১০টি কারণ জানা জরুরী। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরও বায়ু দূষণের কারণ জানা আবশ্যক। কেননা, বিভিন্ন একাডেমিক পরীক্ষায় বায়ু দূষণের ১০টি/৫টি কারণ লেখ এমন প্রশ্ন আসে। 

তাই নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আজকের পোস্টে আমরা বায়ু দূষণের ১০টি কারণ উল্লেখ করার চেষ্টা করব। তাই আসুন, দেরি না করে মূল আলোচনা শুরু করি। 

বায়ু দূষণের ১০টি কারণ

বিভিন্ন কারণে বায়ু দূষণ হতে পারে। নিচে বায়ু দূষণের ১০টি কারণ ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলো। 

১. গাড়ি, বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ইত্যাদি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস থাকে।

২. কলকারখানায় জ্বালানি পোড়ানো এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত গ্যাস ও ধূলিকণা বাতাসে ছড়ায়।

৩. বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কয়লা বা ফসিল ফুয়েল পোড়ানো হয়, যা প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং পার্টিকুলেট ম্যাটার নির্গত করে।

৪. ইটভাটায় কাঠ, কয়লা বা টায়ার পোড়ানো হয়, যা পরিবেশে মারাত্মক ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ছাড়ে।

৫. বনভূমি ধ্বংস ও অগ্নিকাণ্ড বনজঙ্গল পুড়িয়ে ফেলা বা দাবানলে প্রচুর ধোঁয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয়।

৬. আবাসিক এলাকা ও রান্নার চুল্লি গ্রামাঞ্চলে কাঠ, ঘাস, গরুর গোবর ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়।

৭. নির্মাণ কাজ ও ধুলাবালি, রাস্তা, ভবন নির্মাণ ইত্যাদির সময় অনেক ধূলিকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা বায়ু দূষণের একটি বড় উৎস।

৮. কৃষিকাজে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার এগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন করে।

৯. প্লাস্টিক, রাবার, কাপড় ইত্যাদি পোড়ালে ডাইঅক্সিন, ফিউরানসহ অনেক বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়।

১০. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ধুলিঝড়, পোলেন ইত্যাদিও বায়ু দূষণের কারণ হতে পারে, যদিও তা মানবসৃষ্ট নয়।

বায়ু দূষণের ৫টি কারণ

অনেক কারণেই বায়ু দূষণ হয়ে থাকে। একজন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে বায়ু দূষণের কারণ জানা জরুরী। তাই বায়ু দূষণের পাঁচটি প্রধান কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো। 

১. কল-কারখানা, বিশেষ করে ইটের ভাটা, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সিমেন্ট কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ু দূষণের একটি অন্যতম প্রধান উৎস। 

২. যানবাহনের ইঞ্জিন থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে ক্ষতিকর গ্যাস, যেমন কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO 

2), নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং সীসা কণা মিশিয়ে দেয়। বিশেষ করে পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়।

৩. তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গৃহস্থালীর কাজে কয়লা, পেট্রোলিয়াম, এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো হয়। এই দহনের ফলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস বাতাসে মিশে যায়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ।

৪. ব্যাপক হারে গাছপালা কাটা (বন উজাড়) এবং কৃষিজমিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর কারণে বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং অন্যান্য কণা পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এটি একদিকে বায়ুর ভারসাম্য নষ্ট করে, অন্যদিকে ক্ষতিকর ধোঁয়া নির্গত করে বাতাসকে দূষিত করে।

৫. প্লাস্টিক, কাগজ, এবং অন্যান্য গৃহস্থালীর বর্জ্য খোলা স্থানে পোড়ানো হলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস নির্গত হয়। এই ধোঁয়ায় ডাইঅক্সিন এবং ফিউরান নামক অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা বাতাসের গুণগত মানকে চরমভাবে হ্রাস করে।

শেষ কথা 

আগেই বলেছি, বিভিন্ন কারণে বায়ু দূষণ হতে পারে। এর মধ্যে থেকে বায়ু দূষণের প্রধান প্রধান কারণ গুলো আজকের পোস্টে আমরা তুলে ধরেছি। 

আপনার কাছে যদি বায়ু দূষণের কারণ সমূহ জানা থাকে তাহলে আমাদের ব্লগে কমেন্ট করতে পারেন। যা আমাদের জন্য অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।