আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। তথ্য প্রযুক্তির যুগে সবকিছুর সাথে সাথে আমাদের জীবন যাপনও অনেক বেশি স্মার্ট হচ্ছে। আর এই স্মার্ট লাইফ স্টাইলে অন্যতম একটি সঙ্গী হচ্ছে মোবাইল ঘড়ি। আজকে আমি ১০০ টাকার মোবাইল ঘড়ি কিংবা একটি স্মার্ট ওয়াচ কত টাকার মধ্যে পাবেন তা নিয়ে আলোচনা করব।
একটা সময় বাড়িতে বড়জোর একটি ঘড়ি থাকতো। এমনকি আমি যখন ছোট ছিলাম তখন তো পুরো কয়েক বাড়ি মিলে একটি ঘড়ি ছিলো কিনা সন্দেহ। কিন্তু এখন সবার হাতে হাতে শুধু ঘড়িই নয় বরং সেই ঘড়িতে মোবাইলের সমস্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। আজকের এই আলোচনায় আমি জানাবো মোবাইল ঘড়ির দাম এবং বাজেট অনুযায়ী সেরা ঘড়ি কোনটি তা নিয়ে। চলুন শুরু করা যাক।
সাধারণ ঘড়ি এবং মোবাইল ঘড়ির মধ্যে পার্থক্য কি
সাধারণ ঘড়িতে শুধুমাত্র সময় দেখা যায় এবং এলার্ম সেট করা, ক্যালেন্ডার সহ বেশ কিছু ফিচার থাকে। কিন্তু মোবাইল ঘড়িতে একটি স্মার্ট ফোনের যাবতীয় ফিচার দেওয়া থাকে।
এর মাধ্যমে কল করা যায়, নোটিফিকেশন দেখা যায়, সিম কার্ড সাপোর্ট করে, ছবি তোলা যায়, গান শোনা যায় এমনকি ইন্টারনেটও চালানো যায়। আর যে সকল মোবাইলে সিম সাপোর্ট করে তাদেরকে আমরা সাধারণত মোবাইল ঘড়ি বলে থাকি।
মোবাইল ঘড়ি কেনো জরুরী
অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন হাতের মোবাইলটি দিয়ে যদি সমস্ত কাজ করা যায় তাহলে কেন একটি স্মার্টওয়াচ কিনবো। এটি আসলে বিলাসিতা নয় বরং প্রয়োজনেরই একটি অংশ। কারণগুলো হল;
• বাসে কিংবা ভিড়ের মধ্যে পকেট হতে মোবাইল বের করা বেশ ঝামেলা। তখন হাতের স্মার্টওয়াচটি দিয়েই কথা বলার সময় নোটিফিকেশন চেক করা যায়।
• ব্যস্ত জীবনে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার জন্য অনেক সময় এই স্মার্টওয়াচটি কার্যকরী হয়ে ওঠে। এটি ব্যবহারকারীকে মনে করিয়ে দিতে পারে কখন পানি খেতে হবে কিংবা কতটুকু হাঁটাহাঁটি করা দরকার।
• জিপিএস ট্র্যাকার থাকায় বাচ্চাদের কিংবা মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রে খুবই দরকারী একটি ডিভাইস।
১০০ টাকার মোবাইল ঘড়ি | বাংলাদেশে মোবাইল ঘড়ির দাম কত টাকা
যদিও ১০০ টাকায় মোবাইল ঘড়ি বা ৩০০ টাকায় মোবাইল ঘড়ি পাওয়া যায় তবে সেগুলো খুবই সস্তা মনের। এগুলোতে ভালো টাচ স্ক্রিন থাকে না বরং সময় দেখার পাশাপাশি বাড়তি কিছু ফিচার থাকে। এগুলো মূলত বাচ্চাদের জন্য।
মোবাইল ঘড়ির দাম কত টাকা
৫০০ টাকার মধ্যেও বর্তমানে ভালো মানের স্মার্টওয়াচ পাওয়া বেশ কঠিন। ঢাকা শহরের ফুটপাতে কিংবা নিউমার্কেটে বেশ কিছু মোবাইল ঘড়ি পাওয়া যায় যেগুলো ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দাম হয়ে থাকে।
তবে প্রিমিয়াম বাজেটে অর্থাৎ তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ডের এবং ভালো ডিসপ্লের স্মার্ট ওয়াচ পাওয়া যায়। এই স্মার্টওয়াচগুলোতে অ্যামোলেড ডিসপ্লে থাকে, ওয়াটারপ্রুফিং সিস্টেম, এবং ৭ থেকে ১০ দিনের ব্যাটারি লাইফ থাকে। স্মার্টফোনের সাথে কানেক্ট করে নোটিফিকেশন দেখা কথা বলা সহ যাবতীয় কাজের সম্পাদন করা যায়। এমনকি এই বাজেটের মধ্যে ওয়াটারপ্রুফ স্মার্ট ওয়াচও পাওয়া যায়।
স্মার্ট ওয়াচ কোথায় কিনতে পাওয়া যায়
ই-কমার্স সাইট
দারাজ, স্টারটেক সহ অনেক জনপ্রিয় ই কমার্স সাইট আছে যেখানে দেখে দেখে ভালো ভালো নামিদামি ব্রান্ডের স্মার্টওয়াচ কিনতে পারবেন। এমনকি একশ টাকার মোবাইল ঘড়িও এখানে পেয়ে যাবেন। প্রায় সময়ই এ সকল প্লাটফর্মে ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।
বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্ক
বাংলাদেশের অন্যতম দুটি শপিং সেন্টার হচ্ছে বসুন্ধরা সিটি এবং যমুনা ফিউচার পার্ক। এখানে মোবাইল ঘড়ির সহ উন্নতমানের প্রায় সকল ধরনের গেজেট পাওয়া যায়।
লোকাল মার্কেট
প্রতিটি জেলা কিংবা উপজেলা শহরেই ভালো ভালো মার্কেট থাকে। ৩০০০ থেকে ৫ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে সকল ধরনের স্মার্ট ওয়াচ এ সকল লোকাল মার্কেট থেকে কিনতে পারবেন।
মোবাইল ঘড়ি কেনার আগে চেকলিস্ট
পছন্দের স্মার্ট ওয়াচ কেনার আগে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করবেন।
• রোদের আলোতে স্পষ্ট ভাবে দেখার জন্য অবশ্যই অ্যামোলেড কিংবা আইপিএস কোয়ালিটির ডিসপ্লে হতে হবে।
• কমপক্ষে তিন থেকে সাত দিন চার্জ থাকে এমন ঘড়ি কিনা ভালো। বারবার চার্জ দেয়া অনেক সময় বিরক্তিকর হতে পারে।
• কথা বলার ফিচার আছে কিনা সেটি দেখে নিন।
• ঘড়িতে থাকা ফিতা আপনার জন্য আরামদায়ক হবে কিনা সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
• মোবাইলের সাথে কানেক্ট করে অ্যাপ গুলো ব্যবহার করা যায় কিনা তা চেক করে নেই।
১০০ টাকার মোবাইল করে বনাম ১০০০ হাজার টাকার মোবাইল ঘড়ি
যদি বাসার ছোট্ট সোনামনিকে একটি ঘড়ি উপহার দিতে চান তাহলে ১০০ থেকে ১০০০ টাকা দামের মোবাইল ঘড়ি দিতে পারেন। অনেক স্মার্টফোনে এলার্ট সিস্টেম থাকে যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে না চাপ দিলে সরাসরি অভিভাবকের নাম্বারে কল চলে যায়। এমনকি এই বাজেটে সিম সাপোর্ট স্মার্ট ওয়াচও পাওয়া যায়।
স্মার্টও ওয়াচের যত্ন নিবেন কিভাবে
শখের জিনিস দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখার জন্য অবশ্যই রক্ষণাবেক্ষণ এবং যত্নের প্রয়োজন। স্মার্টওয়াচের ক্ষেত্রেও নিচের পদক্ষেপ অনুযায়ী যখন নিতে পারেন।
• সারারাত চার্জে লাগিয়ে রাখবেন না। নির্দিষ্ট সময় সময় পরপর চার্জ দিন।
• মাঝে মাঝে ঘড়ির ফিতা খুলে পরিষ্কার করুন।
• মোবাইলের স্ক্রিনের মত স্মার্টওয়াচের স্ক্রিন প্রটেক্টর পাওয়া যায়। এই সিম প্রোটেক্টর অবশ্যই ব্যবহার করবেন।
• ওয়াটার প্রুফ হলেও অকারণে সেটি পানিতে চুবিয়ে পরীক্ষা করার দরকার নেই।
আমাদের শেষ কথা
প্রিয় পাঠক, বর্তমান স্মার্ট লাইফস্টাইলের যুগে একটি স্মার্টওয়াচ জীবনের অবিচ্ছেদ অংশ হিসেবে বিবেচিত। অনেক প্রফেশনালরাও তাদের সুবিধার কারণে এটি ব্যবহার করে থাকেন। আজকে নিশ্চয়ই বুঝেছেন যে ১০০ টাকার মোবাইল ঘড়ি সহ সকল ধরনের ঘড়ির দাম ও অন্যান্য ফিচার সম্পর্কে।
অনার্স পড়ে সবচেয়ে বেশি বেতন পায় যে বিষয়ে শিক্ষার্থীরা। জেনে নিন
আশা করি এই লেখাটি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে। সবসময় ভালো থাকবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১. ৫০০ টাকায় মোবাইল করে পাওয়ার সম্ভব?
উত্তর: জি অবশ্যই সম্ভব তবে ভালো মানের একটি স্মার্টওয়াচ বা মোবাইল ঘড়ি পাওয়া বেশ কঠিন।
প্রশ্ন ২. সিম কার্ড লাগানো যায় এমন স্মার্টওয়াচের দাম কত?
উত্তর: এ ধরনের ফোনের জন্য মোটামুটি দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা বাজেট করতে হবে।
প্রশ্ন ৩. বর্তমানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় মোবাইল ঘড়ি কোনটি?
উত্তর: বর্তমান বাজার অনুযায়ী কম বাজেটের মধ্যে T800 Ultra, i8 Pro Max এবং টি সিরিজের অন্যান্য ঘড়িগুলো বেশ জনপ্রিয়।






