ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক থেকে ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করার নিয়ম

Hasan Ahamad
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

কোন ধরনের ছেঁড়া টাকা ব্যাংক থেকে পরিবর্তন করা যায়

বাজারে গিয়েছেন কেনাকাটা করতে। পছন্দের একটি শার্ট কেনার পর টাকা দিয়ে থেকে দেখলেন ছেঁড়া নোট। দোকানদার আর সেটি নিতে চাচ্ছে না। ব্যাংক থেকে ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করার নিয়ম জানা থাকলে সহজেই এই নোটটি পরিবর্তন করে নিতে পারেন। আমরা কষ্ট করে টাকা উপার্জন করি অথবা বাসা থেকে বাবা মা ম্যানেজ করে দেয়। কিন্তু অনেক সময় সামান্য ছেঁড়া অথবা জোড়ার কারণে দোকানদার সেটি গ্রহণ করতে চায় না।

যদিও এই ধরনের অল্প ছেঁড়া টাকা খুব সহজে চালানো যায় তবে সতর্কতার কারণে অনেক মানুষই নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। আবার অনেক সময় ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকার নোটটি ছেঁড়ার জন্য অচল হয়ে পড়ে থাকায় আমরাও বেশ মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করি। তো চলুন জেনে নেই, ব্যাংক থেকে ছেঁড়া টাকা কিভাবে বদলিয়ে নিতে পারেন।

ব্যাংক থেকে ছেড়া টাকা পরিবর্তন করার নিয়ম

প্রথমেই জানতে হবে যে কোন কোন ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত টাকা ব্যাংক হতে পরিবর্তন করা যাবে। আর কোন ধরনের টাকা গুলো লেনদেন করতে অসুবিধা হয়।

• টাকাটি দুইটা ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে
• একাধিক খন্ড হয়ে গিয়েছে
• টাকার গায়ে রং লেগেছে
• খুবই ময়লা টাকা
• গায়ের রং উঠে গিয়েছে
• জং ধরে গিয়েছে
• কিছু অংশ আগুনে পোড়া
• ইঁদুর কিংবা পোকামাকড় কেটেছে
• কয়েকটি অংশ জোড়াতালি দেওয়া
• টাকার নিরাপত্তা সুতা ছিড়ে গেছে
• টাকাটি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কেটেছে

তবে যে সকল টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে কাটা হয়েছে অথবা দুই তিনটা নোটের জোড়া দেওয়া রয়েছে সেগুলো পরিবর্তন করতে যাবেন না। কারণ এগুলো ব্যাংক আপনাকে পরিবর্তন করে দিবে না।

ব্যাংকে গিয়ে ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন

বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে সহজেই ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করে অন্য একটি টাকা নিতে পারেন। নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছেঁড়া ফাটা বা জোড়া হলে পুরো টাকাটাই ফেরত পাবেন। আর বেশি ছেঁড়া থাকলে কি করতে হবে সেটি নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই পুরো লিখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

আপনার নিকটস্থ যে কোন তফসিলে (সরকারি বেসরকারি) ব্যাংক এ গিয়েও এই নোটটি বদল করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সেই সকল ব্যাংক ছেঁড়া টাকা বদল না করে দিলে বা অস্বীকার করলে প্রমাণসহ অভিযোগও করতে পারবেন। তবে উপরে উল্লেখিত ধরনের নোট সাধারণত সকল ব্যাংকই পরিবর্তন করে দেয়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক কিংবা তাদের স্টাফরা এ ব্যাপারে মাঝে মাঝে অনিহা প্রকাশ করে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এটি মূলত একটি অলাভজনক সেবা অর্থাৎ এতে তাদের সরাসরি কোন প্রফিট কিংবা লাভ নেই। এখানে দ্বিতীয় অনীহার কারণটি হচ্ছে ছেঁড়া টাকা গুলি ১০০টি না হওয়া পর্যন্ত সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠাতে পারে না। অর্থাৎ যখন কোন একটি নির্দিষ্ট নোটের ১০০ টি অর্থাৎ এক বান্ডেল পূর্ণ হবে তখনই তারা এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে পাঠাতে পারবে।

তবে এই সুযোগে রাস্তাঘাটে মার্কেটে দেখে থাকি একটি ব্যবসায়ী চক্র ছেড়াঁ নোট বা ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করে দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তারা নির্ধারিত নোটের মূল্যের চেয়ে কম দিয়ে থাকে। যেমন ১০০ টাকার ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করে তারা হয়তো ৭০ টাকা ৮০ টাকা দেবে। অবস্থা ভেদে দাম আরো কম হতে পারে।

অতিরিক্ত ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন

বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা যে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় গেলে দায়িত্ব কর্মকর্তা প্রথমের নোটটি ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। যদি টাকাটি অল্প ছাড়া অথবা ময়লা হয় তাহলে সম্পূর্ণ টাকায় আপনাকে ফেরত দেবেন। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন চতুর্থাংশ অর্থাৎ চার ভাগের তিন ভাগ ছেঁড়া বা সীমার মধ্যে থাকে তাহলে জমা মুল্য সাথে সাথেই দিয়ে দিবে।

আর যদি কোন নোট অত্যাধিক ছেঁড়া রা আগুনে পোড়া জড়াজীর্ণ অথবা জোড়া থাকে তাহলে এটির বিনয় মূল্য গ্রাহকের সরাসরি প্রদান করবে না। বরং সেটাই বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর পর সেখান থেকে প্রাপ্তির সাপেক্ষে বিনিময় মূল্য প্রদান করা হবে। এমনকি এই টাকা প্রেরণের জন্য চার্জ অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের খরচ গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হবে এবং সময় লাগতে পারে কয়েকদিন।

আশা করি ব্যাংক হতে ছেড়া টাকা পরিবর্তন করার বিষয়গুলি আপনাদেরকে জানাতে পেরেছি। যে কোন লেনদেনের সময় নোট গ্রহণ অথবা বিনিময়ের সময় সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ব্যাংক থেকে ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করার নিয়ম

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

বাজারে গিয়েছেন কেনাকাটা করতে। পছন্দের একটি শার্ট কেনার পর টাকা দিয়ে থেকে দেখলেন ছেঁড়া নোট। দোকানদার আর সেটি নিতে চাচ্ছে না। ব্যাংক থেকে ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করার নিয়ম জানা থাকলে সহজেই এই নোটটি পরিবর্তন করে নিতে পারেন। আমরা কষ্ট করে টাকা উপার্জন করি অথবা বাসা থেকে বাবা মা ম্যানেজ করে দেয়। কিন্তু অনেক সময় সামান্য ছেঁড়া অথবা জোড়ার কারণে দোকানদার সেটি গ্রহণ করতে চায় না।

যদিও এই ধরনের অল্প ছেঁড়া টাকা খুব সহজে চালানো যায় তবে সতর্কতার কারণে অনেক মানুষই নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। আবার অনেক সময় ৫০০ কিংবা ১০০০ টাকার নোটটি ছেঁড়ার জন্য অচল হয়ে পড়ে থাকায় আমরাও বেশ মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করি। তো চলুন জেনে নেই, ব্যাংক থেকে ছেঁড়া টাকা কিভাবে বদলিয়ে নিতে পারেন।

ব্যাংক থেকে ছেড়া টাকা পরিবর্তন করার নিয়ম

প্রথমেই জানতে হবে যে কোন কোন ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত টাকা ব্যাংক হতে পরিবর্তন করা যাবে। আর কোন ধরনের টাকা গুলো লেনদেন করতে অসুবিধা হয়।

• টাকাটি দুইটা ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে
• একাধিক খন্ড হয়ে গিয়েছে
• টাকার গায়ে রং লেগেছে
• খুবই ময়লা টাকা
• গায়ের রং উঠে গিয়েছে
• জং ধরে গিয়েছে
• কিছু অংশ আগুনে পোড়া
• ইঁদুর কিংবা পোকামাকড় কেটেছে
• কয়েকটি অংশ জোড়াতালি দেওয়া
• টাকার নিরাপত্তা সুতা ছিড়ে গেছে
• টাকাটি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কেটেছে

তবে যে সকল টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে কাটা হয়েছে অথবা দুই তিনটা নোটের জোড়া দেওয়া রয়েছে সেগুলো পরিবর্তন করতে যাবেন না। কারণ এগুলো ব্যাংক আপনাকে পরিবর্তন করে দিবে না।

ব্যাংকে গিয়ে ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন

বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে সহজেই ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করে অন্য একটি টাকা নিতে পারেন। নির্ধারিত সীমার মধ্যে ছেঁড়া ফাটা বা জোড়া হলে পুরো টাকাটাই ফেরত পাবেন। আর বেশি ছেঁড়া থাকলে কি করতে হবে সেটি নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই পুরো লিখাটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

আপনার নিকটস্থ যে কোন তফসিলে (সরকারি বেসরকারি) ব্যাংক এ গিয়েও এই নোটটি বদল করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সেই সকল ব্যাংক ছেঁড়া টাকা বদল না করে দিলে বা অস্বীকার করলে প্রমাণসহ অভিযোগও করতে পারবেন। তবে উপরে উল্লেখিত ধরনের নোট সাধারণত সকল ব্যাংকই পরিবর্তন করে দেয়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক কিংবা তাদের স্টাফরা এ ব্যাপারে মাঝে মাঝে অনিহা প্রকাশ করে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এটি মূলত একটি অলাভজনক সেবা অর্থাৎ এতে তাদের সরাসরি কোন প্রফিট কিংবা লাভ নেই। এখানে দ্বিতীয় অনীহার কারণটি হচ্ছে ছেঁড়া টাকা গুলি ১০০টি না হওয়া পর্যন্ত সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠাতে পারে না। অর্থাৎ যখন কোন একটি নির্দিষ্ট নোটের ১০০ টি অর্থাৎ এক বান্ডেল পূর্ণ হবে তখনই তারা এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে পাঠাতে পারবে।

তবে এই সুযোগে রাস্তাঘাটে মার্কেটে দেখে থাকি একটি ব্যবসায়ী চক্র ছেড়াঁ নোট বা ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করে দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তারা নির্ধারিত নোটের মূল্যের চেয়ে কম দিয়ে থাকে। যেমন ১০০ টাকার ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন করে তারা হয়তো ৭০ টাকা ৮০ টাকা দেবে। অবস্থা ভেদে দাম আরো কম হতে পারে।

অতিরিক্ত ছেঁড়া টাকা পরিবর্তন

বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা যে কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় গেলে দায়িত্ব কর্মকর্তা প্রথমের নোটটি ভালভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। যদি টাকাটি অল্প ছাড়া অথবা ময়লা হয় তাহলে সম্পূর্ণ টাকায় আপনাকে ফেরত দেবেন। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন চতুর্থাংশ অর্থাৎ চার ভাগের তিন ভাগ ছেঁড়া বা সীমার মধ্যে থাকে তাহলে জমা মুল্য সাথে সাথেই দিয়ে দিবে।

আর যদি কোন নোট অত্যাধিক ছেঁড়া রা আগুনে পোড়া জড়াজীর্ণ অথবা জোড়া থাকে তাহলে এটির বিনয় মূল্য গ্রাহকের সরাসরি প্রদান করবে না। বরং সেটাই বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর পর সেখান থেকে প্রাপ্তির সাপেক্ষে বিনিময় মূল্য প্রদান করা হবে। এমনকি এই টাকা প্রেরণের জন্য চার্জ অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের খরচ গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হবে এবং সময় লাগতে পারে কয়েকদিন।

আশা করি ব্যাংক হতে ছেড়া টাকা পরিবর্তন করার বিষয়গুলি আপনাদেরকে জানাতে পেরেছি। যে কোন লেনদেনের সময় নোট গ্রহণ অথবা বিনিময়ের সময় সতর্কতা অবলম্বন করবেন।