স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করলে আইনি প্রতিকার কি

- আপডেট সময় : ০৮:২৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘদিন সংসার করার পর হঠাৎ জানতে পারলেন আপনার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। অথবা একদিন ঘরে রান্না করেছিলেন হঠাৎ করে এক মহিলা এসে দাবি করল তিনি আপনার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী। তার হাতে রয়েছে বিভিন্ন প্রমাণাদি যেমন ছবি, কাবিননামা ইত্যাদি। মুহূর্তে যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। বাংলাদেশে এধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় এমন ভুক্তভোগী নারীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অনেকের এক বা একাধিক সন্তানও রয়েছে যারা এমন জটিল পরিস্থিতিতে আছেন।
আমাদের মুসলিম সমাজের অনেক পুরুষে তার প্রথম স্ত্রীরকে না জানিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকে। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা বাংলাদেশের আইনে শুধুমাত্র অনৈতিক নয় বরং একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মুসলিম পারিবারিক আইনে দ্বিতীয় বিয়ে
যদি কোন পুরুষ প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় পুনরায় বা আবার বিয়ে করতে চায় তবে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশ ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
স্বামীকে অবশ্যই বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নিয়ে তার নিজ এলাকার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সালিসি পরিষদের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে।
এক্ষেত্রে সালিশি পরিষদ যদি দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজনীয়তা ও যুক্তি সঠিক মনে করে তবেই তারা লিখে তো অনুমতি দেবে এবং আপনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন।
স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে
যদি কোন পুরুষ প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকে তাহলে প্রথম স্ত্রী চাইলেই তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। চলুন সেই আইনের পদক্ষেপ গুলো কি কি তা জেনে নিন।
• প্রথমত আইন অবান্য করার কারণে দ্বিতীয় বিয়ে করে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য তার ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এমনকি উভয় দন্ডও হতে পারে।
• স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম সে যদি অভিযোগ করেন তাহলে অবশ্যই তার দেনমোহরের টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে। প্রথম স্ত্রী চাইলে এই ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
• এক্ষেত্রে স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ের পর স্ত্রী যদি তার সাথে থাকতে না চান তাহলে তিনি আলাদা থেকে সম্পূর্ণ ভরণ পোষণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
পরিশেষে স্বামীর এই আচরণ আর কারনে প্রথম স্ত্রী চাইলে তালাক কার্যকর করতে পারেন এবং দেনমোহরের বকেয়া টাকা ও আইন অনুযায়ী খরপোষ দাবি করতে পারবেন।
ধর্মীয়ভাবে দ্বিতীয় বিয়ে
ইসলাম ধর্মে একজন পুরুষের চারটি বিয়ে করা জায়েজ রয়েছে। এমনকি হিন্দু আইনেও বহুবিবাহের উপর সরাসরি কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী একজন পুরুষ তখনই একাধিক বিয়ে করতে পারবেন যখন তিনি সকলের মাঝে সাম্যতা এবং সঠিকভাবে ভরণপোষণের যোগ্যতা অর্জন করেন। এমনকি আরো কিছু বিষয়াদি রয়েছে যা নিয়ে বিভিন্ন আলমের আলোচনা অনলাইন প্লাটফর্মে রয়েছে। তাই এরা ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের পরিবার আর্থিক অবস্থা এবং আলেমগণের মতামত ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী নারীর আইনি সহায়তা
যদি কোন নারী জানতে পারেন যে তার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে তাহলে ভেঙে না পড়ে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।
সবার আগে তাকে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা এবং অন্যান্য ডকুমেন্টস যেমন ছবি তাদের সংগ্রহ করতে হবে। বিশেষ করে তিনি যদি মামলা করতে চান তাহলে অবশ্যই এই কাগজপত্র গুলো প্রয়োজন হবে।
সঠিকভাবে ব্যাংক চেক লেখার পদ্ধতি জেনে নিন
সবার আগে একজন ভালো উকিলের শরণাপন্ন হতে হবে এবং তিনি পারিবারিক আদালতে মামলা দেওয়ার জন্য সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।
নিজের এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। আবার আমাদের সমাজে অনেক নারী নিজের সংসার বাঁচানোর জন্য চুপ করে থাকেন।
পরিশেষে একটি সুস্থ সমাজ গঠনের পারিবারিক বন্ধন খুবই জরুরী। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামীর গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে কেবল একটি অপরাধ নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে একটি সাজানো পরিবারকে নষ্ট করে দেয়।














