ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসুবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

Hasan Ahamad
  • আপডেট সময় : ১০:০১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের মধ্যেও ইসুবগুলের ভুসি খাওয়া নিয়ে বেশ সচেতনতা রয়েছে। এমনকি রোজা কিংবা গরমের দিনগুলোতে ঠান্ডা শরবত, ইসুবগুলের ভুষি খেলেও বেশি উপকার পাওয়া যায়। এটি বেশ কয়েকটি রোগের প্রতিরোধে হিসেবে কাজ করে। যেকোনো কিছুই খাওয়ার জন্য সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। সকলে ভূষি খাওয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নাই।

ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার উপকারিতা

• যারা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কিংবা পাইলসের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য ডাক্তাররা সারা বছর ইসবগুলের শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি খেলে যেমন কষ্ট করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ঠিক তেমনি ভাবে পেটের নানা ধরনের সমস্যায় উপকার বয়ে আনে। এর জন্য রাতের বেলা ৫ থেকে ১০ গ্রাম ইসুবগুলের ভুষি পানিতে ভিজিয়ে রেখে আধা ঘন্টা পর বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে খেলে উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকাল বেলা খালি পেটে খেলেও এর বেশ উপকারিতা রয়েছে।

• যাদের উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিস হয়েছে তারাও এটি খাওয়ার মাধ্যমে সমস্যা গুলি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিকিৎসকরা ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

• বর্তমান সময়তে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েই চলছে। এই সময়টাতে স্যালাইনের পাশাপাশি দিনে ২ বার ৭ থেকে ২০ গ্রাম ইসুবগুলের ভুসি খেলে উপকার পাওয়া যায়।

• বাইরের নানা ধরনের খাবার খেয়ে কিংবা অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাই পাকস্থলে পরিষ্কার রাখতে এবং হজমের সমস্যা দূর করতে সকালবেলা ইসুবগুলের ভুষি খাওয়া খুবই উপকারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে ইসুবগুলের ভুসি আমাশয়ের জীবাণু নষ্ট করতে না পারলেও এটি পেট থেকে বের করে দিতে সহায়তা করে। তাই আমার সহযোগীদের জন্য এটি ওষুধের মত কাজ করে।

ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম

চিকিৎসকদের মতে প্রতিদিন এক থেকে দুই চা চামচ পর্যন্ত ইসুবগুলের ভুসি খাওয়া যেতে পারে তবে এর বেশি নয়। তবে খাওয়ার আগে একটি বড় গ্লাসের মধ্যে পানি নিয়ে সেটিতে বেশ কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখা প্রয়োজন।

এটি এক ধরনের ডায়েটারি ফাইবার যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তবে পেটের ভেতর থাকার অনেক সময় এটি প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে তবে কোন কিছুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিষ তৈরি করে না এবং অন্ত্রের দেয়ালকে পিচ্ছিল করে দেয়। তাই ইসুবগুলের ভুষিয়ে খাওয়ার সঠিক নিয়ম হচ্ছে পানির সাথে ভিজিয়ে খাওয়া।

তবে দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এটির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

আর যারা ওজন কমাতে চান তারা ইসবগুলের ভুষি সাথে এর থেকে ২-৪ বছর লেবুর রস মিশিয়ে সকালবেলা খালি পেটে পান করতে পারেন। এর ফলে বেশ খানিকক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং খাদ্যনালী পরিষ্কার করে এবং শরীরের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।

ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার উপকারিতা অনেক তবে অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। অর্থাৎ এতে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর যদি ইতিমধ্যে কোন মেডিসিন সেবন করে থাকেন তাহলে খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইসুবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

আপডেট সময় : ১০:০১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের মধ্যেও ইসুবগুলের ভুসি খাওয়া নিয়ে বেশ সচেতনতা রয়েছে। এমনকি রোজা কিংবা গরমের দিনগুলোতে ঠান্ডা শরবত, ইসুবগুলের ভুষি খেলেও বেশি উপকার পাওয়া যায়। এটি বেশ কয়েকটি রোগের প্রতিরোধে হিসেবে কাজ করে। যেকোনো কিছুই খাওয়ার জন্য সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। সকলে ভূষি খাওয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নাই।

ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার উপকারিতা

• যারা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কিংবা পাইলসের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য ডাক্তাররা সারা বছর ইসবগুলের শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি খেলে যেমন কষ্ট করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ঠিক তেমনি ভাবে পেটের নানা ধরনের সমস্যায় উপকার বয়ে আনে। এর জন্য রাতের বেলা ৫ থেকে ১০ গ্রাম ইসুবগুলের ভুষি পানিতে ভিজিয়ে রেখে আধা ঘন্টা পর বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে খেলে উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকাল বেলা খালি পেটে খেলেও এর বেশ উপকারিতা রয়েছে।

• যাদের উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিস হয়েছে তারাও এটি খাওয়ার মাধ্যমে সমস্যা গুলি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিকিৎসকরা ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

• বর্তমান সময়তে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েই চলছে। এই সময়টাতে স্যালাইনের পাশাপাশি দিনে ২ বার ৭ থেকে ২০ গ্রাম ইসুবগুলের ভুসি খেলে উপকার পাওয়া যায়।

• বাইরের নানা ধরনের খাবার খেয়ে কিংবা অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাই পাকস্থলে পরিষ্কার রাখতে এবং হজমের সমস্যা দূর করতে সকালবেলা ইসুবগুলের ভুষি খাওয়া খুবই উপকারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে ইসুবগুলের ভুসি আমাশয়ের জীবাণু নষ্ট করতে না পারলেও এটি পেট থেকে বের করে দিতে সহায়তা করে। তাই আমার সহযোগীদের জন্য এটি ওষুধের মত কাজ করে।

ইসুবগুলের ভুষি খাওয়ার নিয়ম

চিকিৎসকদের মতে প্রতিদিন এক থেকে দুই চা চামচ পর্যন্ত ইসুবগুলের ভুসি খাওয়া যেতে পারে তবে এর বেশি নয়। তবে খাওয়ার আগে একটি বড় গ্লাসের মধ্যে পানি নিয়ে সেটিতে বেশ কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখা প্রয়োজন।

এটি এক ধরনের ডায়েটারি ফাইবার যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তবে পেটের ভেতর থাকার অনেক সময় এটি প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে তবে কোন কিছুর সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিষ তৈরি করে না এবং অন্ত্রের দেয়ালকে পিচ্ছিল করে দেয়। তাই ইসুবগুলের ভুষিয়ে খাওয়ার সঠিক নিয়ম হচ্ছে পানির সাথে ভিজিয়ে খাওয়া।

তবে দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এটির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

আর যারা ওজন কমাতে চান তারা ইসবগুলের ভুষি সাথে এর থেকে ২-৪ বছর লেবুর রস মিশিয়ে সকালবেলা খালি পেটে পান করতে পারেন। এর ফলে বেশ খানিকক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং খাদ্যনালী পরিষ্কার করে এবং শরীরের চর্বি কমাতে সহায়তা করে।

ইসবগুলের ভুষি খাওয়ার উপকারিতা অনেক তবে অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। অর্থাৎ এতে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর যদি ইতিমধ্যে কোন মেডিসিন সেবন করে থাকেন তাহলে খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।