সোলার প্যানেলের কাজ ও সুবিধা অসুবিধা

- আপডেট সময় : ০৬:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি সংকটের এই বছরে আমরা বেশ ভালোই টের পাচ্ছি সোলার প্যানেলের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। সরকারি লাইনের বিদ্যুৎ যে এলাকায় নেই সেই এলাকার মানুষ এর একমাত্র ভরসা হচ্ছে সোলার প্যানেল। চলুন আজকে সৌর বিদ্যুতের সুবিধা ও অসুবিধাসহ সকল খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জেনে নেই।
সোলার প্যানেলের কাজ কি
আমরা যে বিদ্যুতের লাইন ব্যবহার করি সেটি মূলত অনবায়নযোগ্য উৎস। যেমন জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায় আবার জেনারেটর চালাতে তেলের প্রয়োজন হয়। জ্বালানি তেল এক সময় ফুরিয়ে যাবে এবং জেনারেটর বন্ধ হয়ে যাবে।
কিন্তু অন্যতম একটি নবায়নযোগ্য উৎস সূর্যের আলো সেটি শেষ হবে না। আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন অথবা না করেন সূর্যের আলো ঠিকই আমাদের পৃথিবীতে এসে পৌঁছাবে। আর সোলার প্যানেলের কাজ হল এই সূর্যের আলোক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা।
সোলার প্যানেল কিভাবে কাজ করে
আমরা বাজার থেকে যে প্যানেল কিনে আনি সেগুলো মূলত সূর্যের আলোক কনা বা ফটোন কণা শোষণ করে। তারপর সূর্যের আলোর প্রভাবে প্যানেলের ভেতরে থাকা ইলেকট্রন গুলো উত্তপ্ত হয়ে নড়াচড়া শুরু করে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করে। আর সেই বিদ্যুৎ ব্যাটারীতে সঞ্চয় করে অথবা সরাসরি তারের মাধ্যমে লাইট, ফ্যান ইত্যাদি চালানো যায়। যদিও এটি প্রথমে ডিসি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে তবে ইনভার্টার ব্যবহার করে একে এসিতেও রূপান্তর করা যায়। আবার ব্যাটারিতে সঞ্চয় করে রাতের বেলাও ব্যবহার করা যায়।
সোলার প্যানেলের সুবিধা
নবায়নযোগ্য শক্তির এই উৎসটির সুবিধা রয়েছে অনেক। তার মধ্যে মূল সুবিধাটি হচ্ছে যত খুশি এটি ব্যবহার করা যায় এবং বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়। চলুন এছাড়াও সৌর বিদ্যুতের সুবিধা গুলি জেনে নেই।
পরিবেশগতভাবে নিরাপদ
জ্বালানি তেল কিংবা পরিবেশ দূষণকারী গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গত না করে শুধুমাত্র সূর্য আলোকে ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করা যায় এটা পরিবেশের জন্য খুবই নিরাপদ। বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
বিদ্যুৎ খরচ কম আসে
প্রথমবার কিছু টাকা বিনিয়োগ করলে পরবর্তীতে আর কোন অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় না। শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণ ভাব কিছু অর্থ খরচ হতে পারে তাই এটি মাসিক বিদ্যুৎ বিলের উপর চাপ কমায়। অর্থাৎ প্রতিদিন প্যান্টের মাধ্যমে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে সেটি মূলত কোন ধরনের খরচ ছাড়াই আসে।
দীর্ঘস্থায়িত্ব
একটি সোলার প্যানেলের সাধারণত ২০ থেকে ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়। অর্থাৎ এটি খুব বেশি রক্ষণাবেক্ষণ করার প্রয়োজন পড়ে না। আবার বিক্রেতারাও প্রতিটি প্যানেলের জন্য দীর্ঘমেয়াদের ওয়ারেন্টি প্রদান করে থাকে।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি
যদি আপনার বাড়ির প্যানেলের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় যদি কিনা আপনার প্রয়োজন নেই তাহলে সেটি সরকারি লাইনের গ্রিডে বিক্রি করা যায় যা কিনা অতিরিক্ত আয়ের ভালো উৎস।
সোলার প্যানেলের অসুবিধা সমূহ
সুবিধার পাশাপাশি এর কিছু অসুবিধা রয়েছে, চলুন সেগুলো জেনে নেই।
প্রাথমিক খরচ
প্রথমবার ইন্সটল করার জন্য প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, কন্ট্রোলার ইত্যাদি মিলে বেশ ভালো অর্থের প্রয়োজন হয়। অবশ্য অনেক প্রতিষ্ঠান মাসিক কিস্তিতে সোলার বিক্রি করে থাকে।
আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীলতা
যেহেতু সূর্যের আলো থেকে শক্তি উৎপন্ন হয় তাই রাতের বেলা এটি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে না এবং মেঘলা দিনেও কিছুটা খুব বেশি বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে না।
কর্ম ক্ষমতা হ্রাস
সময়ের সাথে সাথে প্রতিটি ইলেকট্রনিক্স জিনিসেরই কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। তবে সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সেটি খুব বেশি হ্রাস পায় না।
বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি
একটি বাসায় সৌর বিদ্যুৎ সেটআপ করতে গেলে বেশ কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় এবং সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জ্ঞান দরকার হয়। যা কিনা অনেকেই পারেন না তাই বাইরে থেকে মেকানিক এনে সার্ভিসিং করাতে বেশ অর্থ খরচ হয়।
স্থানের প্রয়োজনীয়তা
একটি মোটামুটি মানের সৌর বিদ্যুতের সেটআপ করতে বেশ জায়গা প্রয়োজন হয় বিশেষ করে বাড়ির ছাদে। তাছাড়া সৌর বিদ্যুতের অসুবিধা গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এটি সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবহন করা বেশ কঠিন।
সম্ভাব্য ও ক্ষতির সম্ভাবনা
অনেক সময় শিলাবৃষ্টি, গাছ পড়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে সোলো প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যা কিনা ওয়ারেন্টির আওতাভুক্ত নাও হতে পারে।
তবে একটি দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ হিসেবে সোলার প্যানেলের সুবিধাই বেশি। কারণ যদি কোন ভাবে সরকারি বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা লোডশেডিং হয় তাহলে নিরবিচ্ছন্নভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার এটিই সবচাইতে কার্যকরী উপায়।













