কম খরচে ভ্রমণ করার দারুন কিছু টিপস

- আপডেট সময় : ০৭:২৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
মৌলিক চাহিদা পূরণ করার পর মানুষ সবচাইতে বেশি পছন্দ করে ঘুরতে যেতে। এমনকি মন ভালো করার জন্য দেশ-বিদেশে ঘুরতে বেড়ানোর চেয়ে ভালো কোনো ওষুধ নেই। যেহেতু কোথাও গেলে বেশ অর্থের প্রয়োজন হয়, তাই কম খরচে ভ্রমণ করার কিছু টিপস নিয়ে আজকে আলোচনা করবো। অনেকেই মনে করে থাকেন বাসা থেকে বের হলে বুঝি শুধু টাকা খরচ হয়। কিন্তু অল্প কিছু হিসাব করলেই ঘুরে বেড়ানোর খরচ ৩০ থেকে ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।
কম খরচে এক ভ্রমণ করার টিপস
বাজেট ট্রাভেলিং এর মূলমন্ত্র হলো আগে থেকে পরিকল্পনা করা। এর পাশাপাশি আরো কিছু কৌশল আছে যা অবলম্বন করলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই টাকা বাঁচানো সম্ভব।
দলগত ভ্রমণ
একসাথে অনেক জন ঘুরতে গেলে বাস ভাড়া, হোটেল ভাড়া, খাবার ভাড়া থেকে শুরু করে সব খরচ সাশ্রয়ী হয়। তাই বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, অফিসের কলিগ সবাই মিলে ঘুরতে বেড়ানোর প্ল্যান করুন।
অফ সিজনে ভ্রমণ
কম খরচে ভ্রমণ করার অন্যতম একটি ভালো সময় হচ্ছে অফ সিজন। অর্থাৎ যে সময়ে দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকে। যেকোনো লম্বা ছুটি কিংবা উৎসবের দিনগুলোতে সব জায়গায় প্রচন্ড রকমের ভিড় থাকে। তখন হোটেল এবং যাতায়াত ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ লেগে যায়। নিজের ব্যক্তিগত ছোটকে কাজে লাগিয়ে অফ সিজনে ভ্রমণ করে বাঁচাতে পারেন অনেক অর্থ।
নিজের কাজ নিজে করুন
কোন ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তা না নিয়ে যাতায়াতের টিকিট ক্রয় হোটেল বুকিং, খাবার ব্যবস্থা ইত্যাদি নিজে করলে অনেকটাই খরচ কমে যায়। আবার ট্রাভেল এজেন্সি থেকে যে টাকা কমিশন ব্যবহার দিতে হয় সেটিও বেঁচে যায়।
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট
প্রাইভেট কার কিংবা এরোপ্লেনে না গিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার করা কম খরচে ভ্রমণ করার সবচাইতে কার্যকর উপায়। অল্প দূরত্বে যাওয়ার জন্য রিক্সা বা ট্যাক্সের পরিবর্তে বাস, ট্রেন অনেক সস্তা হয়।
আগে থেকে পরিকল্পনা
যেখানে ঘুরতে যাবেন সেখানকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, ঢোকার টিকেটের দাম, সময় ইত্যাদি করা সম্পর্কে আগে থেকে জেনে রাখুন। এমনকি দুর্গম স্থান যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার এবং পানীয় পাওয়া যায় না তা আগে থেকে ব্যবস্থা করলে খরচ কমানো যায়।
ব্যক্তিগত অভ্যাস
অনেকেই বাইরে গেলে হুট করে দোকানে গিয়ে খাবার ক্রয় করে অথবা অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে অর্থ অপচয় করে। যারা কিনা নিয়মিত ঘুরতে পছন্দ করে তাদের জন্য অর্থ বাঁচানোর জন্য এই অভ্যাসটি অবশ্যই ত্যাগ করতে হবে।
লোকাল খাবার
কোথাও বেড়াতে গিয়ে খরচ কমানোর জন্য বড় বড় অর্ধ কিংবা দামি রেস্টুরেন্টে না গিয়ে লোকাল দোকানে কম খরচে খাবার খেতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই খাবারের মান এবং স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে।
ট্যুরিজম সার্ভিস
পশ্চিমা দেশগুলোতে এই ধরনের কমিউনিটি ট্যুরিজম সার্ভিস জনপ্রিয়। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকেরা বাহির থেকে আসা পর্যটকদের কে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে অল্প টাকার বিনিময়। কিছু কিছু জায়গায় তো নিজের না রান্না করে খাওয়ার সুব্যবস্থা থাকে। তাই যেখানে ভ্রমণ করতে যাবেন সেখানে এ ধরনের কোন সার্ভিস পাওয়া যায় কিনা তা জেনে নাই।
অতিরিক্ত কেনাকাটা না করা
ভ্রমণের খরচ সবচাইতে বেশি বাড়িয়ে দেয় অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা। তাই কোন কিছু ক্রয় করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন এটি সত্যি দরকার কিনা। তা না হলে প্রম কম খরচে ভ্রমণ করা আর সম্ভব হবে না।
সার্ভিস গ্রহণ
হোটেল গুলোতে লন্ড্রি সার্ভিস, রুম সার্ভিস ইত্যাদি সেবা পাওয়া যায়। এর বিনিময়ে বেশ কিছু কাজ হয়ে গেলেও সার্ভিস প্রদানকারীকে বকশিশ দিতে হয়। তাই খরচ কমাতে চাইলে এই ধরনের রুম কিংবা লন্ড্রি সার্ভিস না নেওয়াই ভালো।
শুধুমাত্র ওপর একটা নিয়ম হলো অনুসরণ করলে কম খরচে ভ্রমণ করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে। তা না হলে ভ্রমণ আনন্দদায়ক হবে ঠিকই তবে পকেটের বারোটা বেজে যাবে।















