ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে ঘোরার জায়গা | হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী

Hasan Ahamad
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

বাণিজ্যিক এলাকা গাজীপুরে ঘোরার জায়গা রয়েছে বেশ কয়েকটি। তারমধ্য হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী অন্যতম। কর্মব্যস্ত জীবনে যদি একদিন ছুটি পাওয়া যায় তাহলে অনেকেই মনকে শান্ত করার জন্য কোথাও ঘুরে আসতে চান। তাদের জন্যই কাছের একটি স্থান নিয়ে আলোচনা করবো।

গাজীপুর জেলা সদর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরোজালি গ্রামে অবস্থিত হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী। বাংলাদেশের ভ্রমন প্রিয় প্রায় সকল মানুষের কাছেই এটি চেনা। প্রায় ৪০ বিঘা জমির উপর অবস্থিত এই দর্শনীয় স্থানটি হুমায়ূন আহমেদ ১৯৮৭ সালে বাস্তবায়ন শুরু করেন। মূলত তারই ছেলে নুহাশের নাম অনুসারে এটির নামকরণ করা হয়। হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত কিংবা তার লেখা পড়েছেন প্রায় সকলেই তার স্পর্শ এবং ভালোবাসার এই জায়গাটিতে আসতে চান।

কি কি দেখতে পাবেন নুহাশ পল্লীতে

কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে গাজীপুরের ঘোরার জায়গায় কোথায় কোথায় রয়েছে তবে সবার আগে আমি এই স্থানের নাম বলবো। প্রবেশ করার সাথে সাথে বামদিকে দেখতে পাবেন সবুজ প্রান্তর এবং একই দিকে লিচু বাগানে শায়িত আছেন সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ।

তাছাড়া এর ভেতরে শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ভূত এবং ব্যাঙের আকারের ভাস্কর্য। রয়েছে আঁকাবাঁকা সুইমিংপুল যেখানে হুমায়ূন আহমেদ সাঁতার কেটেছেন এবং সাথে ছিলেন প্রখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

রয়েছে টিনের বিশাল কটেজ যার নাম বৃষ্টি বিলাস। এখানে বসেই হুমায়ূন আহমেদ পূর্ণিমা এবং বৃষ্টি দেখতে পছন্দ করতেন। তাছাড়াও শুটিং স্পট সহ পর্যটকদের দৃষ্টি কাটতে রয়েছে নানা ধরনের স্থাপনা। এমনকি রয়েছে একটি কৃত্রিম দ্বীপ। এতকিছু চোখে না দেখে শুধুমাত্র লিখায় বোঝানো সম্ভব না। তাই যদি হাতে একদিনের সময় থাকে তাহলে গাজীপুর কিংবা ঢাকা ও এর আশেপাশে এলাকার থেকে এসে সারাদিনে ঘুরে আবার বাসায় যেতে পারবেন।

নুহাশ পল্লীতে কিভাবে যাওয়া যায়

আপনি যদি ঢাকা কিংবা অন্যান্য এলাকা থেকে আসেন তাহলে সবার আগে গাজীপুরে চৌরাস্তা আসতে হবে। এরপর থেকে বাস সিএনজি ইত্যাদিযোগে যেতে হবে হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ রোডে অনেক গাড়ি রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আবার সরাসরি হোতাপাড়া স্ট্যান্ডে যাওয়া যায়। ময়মনসিংহ কিংবা ভালুকা রোড থেকে একইভাবে হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে।

সেখান থেকে টেম্পো দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা অথবা রিক্সা যোগেও নুহাশ পল্লীতে পৌঁছানো যাবে। অল্প দূরত্বের এই রাস্তা আবার সিএনজিও চলাচল করে।

নুহাশ পল্লীতে টিকিটের মূল্য কত টাকা

গাজীপুরের ঘোরার জায়গা নুহাশ পল্লীতে প্রবেশের জন্য পূর্ব থেকে কোন অনুমতি লাগে না। টিকিট ফি অর্থাৎ এন্ট্রি ফ্রি ২০০ টাকা দিয়ে যে কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারে।

দশ বছরের কম বয়সী শিশু, গাড়ির ড্রাইভার এবং গাড়ি পার্কের জন্য অতিরিক্ত কোন খরচ নেই। একজন দর্শনার্থী চাইলে হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে পারবেন।

গাজীপুরের ঘোরার জায়গা গুলোর মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক নুহাশ পল্লীর খুব নিকটেই অবস্থিত। যদি সকাল-সকাল আসতে পারেন তাহলে উভয়ে স্থানই ঘুরে যেতে পারবেন।

ইসুবগুলের ভুসি খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানতে এখানে প্রবেশ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

গাজীপুরে ঘোরার জায়গা | হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

বাণিজ্যিক এলাকা গাজীপুরে ঘোরার জায়গা রয়েছে বেশ কয়েকটি। তারমধ্য হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী অন্যতম। কর্মব্যস্ত জীবনে যদি একদিন ছুটি পাওয়া যায় তাহলে অনেকেই মনকে শান্ত করার জন্য কোথাও ঘুরে আসতে চান। তাদের জন্যই কাছের একটি স্থান নিয়ে আলোচনা করবো।

গাজীপুর জেলা সদর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরোজালি গ্রামে অবস্থিত হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী। বাংলাদেশের ভ্রমন প্রিয় প্রায় সকল মানুষের কাছেই এটি চেনা। প্রায় ৪০ বিঘা জমির উপর অবস্থিত এই দর্শনীয় স্থানটি হুমায়ূন আহমেদ ১৯৮৭ সালে বাস্তবায়ন শুরু করেন। মূলত তারই ছেলে নুহাশের নাম অনুসারে এটির নামকরণ করা হয়। হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত কিংবা তার লেখা পড়েছেন প্রায় সকলেই তার স্পর্শ এবং ভালোবাসার এই জায়গাটিতে আসতে চান।

কি কি দেখতে পাবেন নুহাশ পল্লীতে

কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে গাজীপুরের ঘোরার জায়গায় কোথায় কোথায় রয়েছে তবে সবার আগে আমি এই স্থানের নাম বলবো। প্রবেশ করার সাথে সাথে বামদিকে দেখতে পাবেন সবুজ প্রান্তর এবং একই দিকে লিচু বাগানে শায়িত আছেন সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ।

তাছাড়া এর ভেতরে শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ভূত এবং ব্যাঙের আকারের ভাস্কর্য। রয়েছে আঁকাবাঁকা সুইমিংপুল যেখানে হুমায়ূন আহমেদ সাঁতার কেটেছেন এবং সাথে ছিলেন প্রখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

রয়েছে টিনের বিশাল কটেজ যার নাম বৃষ্টি বিলাস। এখানে বসেই হুমায়ূন আহমেদ পূর্ণিমা এবং বৃষ্টি দেখতে পছন্দ করতেন। তাছাড়াও শুটিং স্পট সহ পর্যটকদের দৃষ্টি কাটতে রয়েছে নানা ধরনের স্থাপনা। এমনকি রয়েছে একটি কৃত্রিম দ্বীপ। এতকিছু চোখে না দেখে শুধুমাত্র লিখায় বোঝানো সম্ভব না। তাই যদি হাতে একদিনের সময় থাকে তাহলে গাজীপুর কিংবা ঢাকা ও এর আশেপাশে এলাকার থেকে এসে সারাদিনে ঘুরে আবার বাসায় যেতে পারবেন।

নুহাশ পল্লীতে কিভাবে যাওয়া যায়

আপনি যদি ঢাকা কিংবা অন্যান্য এলাকা থেকে আসেন তাহলে সবার আগে গাজীপুরে চৌরাস্তা আসতে হবে। এরপর থেকে বাস সিএনজি ইত্যাদিযোগে যেতে হবে হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ রোডে অনেক গাড়ি রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে আবার সরাসরি হোতাপাড়া স্ট্যান্ডে যাওয়া যায়। ময়মনসিংহ কিংবা ভালুকা রোড থেকে একইভাবে হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে আসতে হবে।

সেখান থেকে টেম্পো দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা অথবা রিক্সা যোগেও নুহাশ পল্লীতে পৌঁছানো যাবে। অল্প দূরত্বের এই রাস্তা আবার সিএনজিও চলাচল করে।

নুহাশ পল্লীতে টিকিটের মূল্য কত টাকা

গাজীপুরের ঘোরার জায়গা নুহাশ পল্লীতে প্রবেশের জন্য পূর্ব থেকে কোন অনুমতি লাগে না। টিকিট ফি অর্থাৎ এন্ট্রি ফ্রি ২০০ টাকা দিয়ে যে কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারে।

দশ বছরের কম বয়সী শিশু, গাড়ির ড্রাইভার এবং গাড়ি পার্কের জন্য অতিরিক্ত কোন খরচ নেই। একজন দর্শনার্থী চাইলে হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে পারবেন।

গাজীপুরের ঘোরার জায়গা গুলোর মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক নুহাশ পল্লীর খুব নিকটেই অবস্থিত। যদি সকাল-সকাল আসতে পারেন তাহলে উভয়ে স্থানই ঘুরে যেতে পারবেন।

ইসুবগুলের ভুসি খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানতে এখানে প্রবেশ করুন