ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিভাবে সব ধরনের জুতা ভালো রাখা যায়

Hasan Ahamad
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

পোশাকের সাথে মানানসই এক জোড়া জুতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একই দিকে যেমন কারো ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলে অপরদিকে রুচিরও পরিচয় বহন করে। কিন্তু কিভাবে জুতা ভালো রাখা যায় তা না জানার ফলে অনেকেরই পছন্দের জুতাটি খুবই দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আজকালকার ফ্যাশনের যুগে আমরা জুতার ফিতা বা কোন অংশ সামান্য ছিড়ে গেলে নতুন জুতা কিনে থাকি। কিন্তু সঠিক কিছু কৌশল জানা থাকলে এক জোড়া জুতা বছরের পর বছর নতুনের মত করে ব্যবহার করা যায়।

অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বরাও নিজেদের পছন্দের জিনিসগুলি দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। চলুন সেগুলোই আজকে জেনে নেই।

জুতা ভালো রাখার উপায় বা কৌশল

সবার আগে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে যে কোনভাবে যদি কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি বাতিল হয়ে যাবে এমনটি নয়। বরং একজন দক্ষ মুচি সামান্য একটু আঠা বা সেলাইয়ের মাধ্যমে সেটি আরও এক দুই বছর ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে পারে। বর্তমানে তো বিভিন্ন জুতার সোল বা তলা কিনারও সুযোগ রয়েছে।

কেনার সময় সচেতনতা

যখনই কোন অযথা কিনবেন সেটা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। বিশেষ করে সেটা কি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং ভেতরের ইনসোল গুলো কেমন। চামড়ার জুতা কেনার ক্ষেত্রে ভেতরে আস্তরনটিও চামড়া কিনে আতা দেখে নিন।

বাড়তি সুরক্ষা

জুতার সাথে দেওয়া তলা বা সোলের সাথে আরও একটি পাতলা রাবারের সোল কিনে বসিয়ে নিতে পারেন। এতে করে এক বছরের জায়গায় দুই বছর জুতাটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং মেঝেতে পিছলা করার ঝুঁকিও থাকবে না।

চামড়ার জুতার যত্ন

চামড়ার জুতা ভালো রাখার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে কিছু পরিমাণে অলিভ অয়েল কিংবা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চামড়া অনেক দিন পর্যন্ত টেকসই থাকে। তবে প্লাস্টিক বা সিন্থেটিক জুতা গুলি শুধুমাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখা যথেষ্ট।

জুতা পরিবর্তন করুন

সবসময় একই ধরনের জুতা ব্যবহার না করে দুই তিন জোড়া জুতো একসাথে অদল বদল করে পড়ুন। এতে করে যে কোন জুতা ব্যবহার পর সেটি শুকানোর যথেষ্ট সময় পায় এবং আয়ু বাড়ে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ

রাস্তায় চলাফেরার ফলে জুতার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ধুলাবালি জমে যেটি কিনা জুতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই জুতা ভালো রাখার জন্য অবশ্যই ব্যবহারের পর হালকা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে রাখলে ভালো থাকে।

নিয়মিত পলিশ করা

চামড়া জুতা বিশেষ করে সু নিয়মিত পলিশ করা উচিত। গোড়ালির অংশ যেহেতু আগে ভাঁজ করা যায় তাই সে জায়গাগুলোতেও নিয়মিত পালিশ করলে ভাঁজ অনেকটাই কম পড়ে।

বাকিতে মোবাইল রিচার্জ করা শিখুন

অন্যান্য সচেতনতা

• জুতা পরিষ্কার করার জন্য কখনো সেটি ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে দেবেন না। বরং সাবান পানি এবং স্পন্জ দিয়ে পরিষ্কার করা এসব চাইতে বেশি ভালো।

• চামড়া কিংবা সিন্থেটিক যাই হোক না কেন পরনের কেডস, সু, স্যান্ডেল কখনোই সরাসরি রোদে অথবা চুলার পাশে শুকানো যাবে না। এতে করে জুতার আঠা আগলা হয়ে যাবে এবং চামড়ার শক্ত হয়ে ফেটে যেতে পারে।

• বাইরের ধুলাবালির কারণে লেস বাফি টা তাড়াতাড়ি পুরনো হয় এবং জুতার চেহারাও নষ্ট হয়ে যায়। তাই কিছুদিন পরপর লেস বা ফিতা পরিবর্তন করতে পারেন।

অনেক মানুষ আছেন যারা হাজার হাজার টাকা খরচ করে পছন্দের জুতাটি কিনেন দীর্ঘদিন ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু জুতা ভালো রাখার উপায় গুলি না জানার কারণে অল্প কিছুদিন ব্যবহারের পরেই সেটি খারাপ হয়ে যায়। তাদের জন্য উপরের এই কৌশল গুলি খুবই কার্যকরী। আশা করি এতে আপনাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা সাশ্রয় হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কিভাবে সব ধরনের জুতা ভালো রাখা যায়

আপডেট সময় : ০২:১৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

পোশাকের সাথে মানানসই এক জোড়া জুতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একই দিকে যেমন কারো ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলে অপরদিকে রুচিরও পরিচয় বহন করে। কিন্তু কিভাবে জুতা ভালো রাখা যায় তা না জানার ফলে অনেকেরই পছন্দের জুতাটি খুবই দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আজকালকার ফ্যাশনের যুগে আমরা জুতার ফিতা বা কোন অংশ সামান্য ছিড়ে গেলে নতুন জুতা কিনে থাকি। কিন্তু সঠিক কিছু কৌশল জানা থাকলে এক জোড়া জুতা বছরের পর বছর নতুনের মত করে ব্যবহার করা যায়।

অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বরাও নিজেদের পছন্দের জিনিসগুলি দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। চলুন সেগুলোই আজকে জেনে নেই।

জুতা ভালো রাখার উপায় বা কৌশল

সবার আগে একটি জিনিস মনে রাখতে হবে যে কোনভাবে যদি কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি বাতিল হয়ে যাবে এমনটি নয়। বরং একজন দক্ষ মুচি সামান্য একটু আঠা বা সেলাইয়ের মাধ্যমে সেটি আরও এক দুই বছর ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে পারে। বর্তমানে তো বিভিন্ন জুতার সোল বা তলা কিনারও সুযোগ রয়েছে।

কেনার সময় সচেতনতা

যখনই কোন অযথা কিনবেন সেটা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। বিশেষ করে সেটা কি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং ভেতরের ইনসোল গুলো কেমন। চামড়ার জুতা কেনার ক্ষেত্রে ভেতরে আস্তরনটিও চামড়া কিনে আতা দেখে নিন।

বাড়তি সুরক্ষা

জুতার সাথে দেওয়া তলা বা সোলের সাথে আরও একটি পাতলা রাবারের সোল কিনে বসিয়ে নিতে পারেন। এতে করে এক বছরের জায়গায় দুই বছর জুতাটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং মেঝেতে পিছলা করার ঝুঁকিও থাকবে না।

চামড়ার জুতার যত্ন

চামড়ার জুতা ভালো রাখার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে কিছু পরিমাণে অলিভ অয়েল কিংবা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চামড়া অনেক দিন পর্যন্ত টেকসই থাকে। তবে প্লাস্টিক বা সিন্থেটিক জুতা গুলি শুধুমাত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখা যথেষ্ট।

জুতা পরিবর্তন করুন

সবসময় একই ধরনের জুতা ব্যবহার না করে দুই তিন জোড়া জুতো একসাথে অদল বদল করে পড়ুন। এতে করে যে কোন জুতা ব্যবহার পর সেটি শুকানোর যথেষ্ট সময় পায় এবং আয়ু বাড়ে।

নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ

রাস্তায় চলাফেরার ফলে জুতার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ধুলাবালি জমে যেটি কিনা জুতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। তাই জুতা ভালো রাখার জন্য অবশ্যই ব্যবহারের পর হালকা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে রাখলে ভালো থাকে।

নিয়মিত পলিশ করা

চামড়া জুতা বিশেষ করে সু নিয়মিত পলিশ করা উচিত। গোড়ালির অংশ যেহেতু আগে ভাঁজ করা যায় তাই সে জায়গাগুলোতেও নিয়মিত পালিশ করলে ভাঁজ অনেকটাই কম পড়ে।

বাকিতে মোবাইল রিচার্জ করা শিখুন

অন্যান্য সচেতনতা

• জুতা পরিষ্কার করার জন্য কখনো সেটি ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে দেবেন না। বরং সাবান পানি এবং স্পন্জ দিয়ে পরিষ্কার করা এসব চাইতে বেশি ভালো।

• চামড়া কিংবা সিন্থেটিক যাই হোক না কেন পরনের কেডস, সু, স্যান্ডেল কখনোই সরাসরি রোদে অথবা চুলার পাশে শুকানো যাবে না। এতে করে জুতার আঠা আগলা হয়ে যাবে এবং চামড়ার শক্ত হয়ে ফেটে যেতে পারে।

• বাইরের ধুলাবালির কারণে লেস বাফি টা তাড়াতাড়ি পুরনো হয় এবং জুতার চেহারাও নষ্ট হয়ে যায়। তাই কিছুদিন পরপর লেস বা ফিতা পরিবর্তন করতে পারেন।

অনেক মানুষ আছেন যারা হাজার হাজার টাকা খরচ করে পছন্দের জুতাটি কিনেন দীর্ঘদিন ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু জুতা ভালো রাখার উপায় গুলি না জানার কারণে অল্প কিছুদিন ব্যবহারের পরেই সেটি খারাপ হয়ে যায়। তাদের জন্য উপরের এই কৌশল গুলি খুবই কার্যকরী। আশা করি এতে আপনাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা সাশ্রয় হবে।