ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের আগে যে সকল মেডিকেল টেস্ট করা জরুরী

Hasan Ahamad
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের প্রস্তুতি বলতে আমরা কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজন দাওয়াত, খাবারের আয়োজন ইত্যাদিকেই বুঝি। কিন্তু বর্তমানে অনেক সচেতন মানুষদের মধ্যে বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট নিয়েও বেশ আগ্রহ রয়েছে। কারণ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে আগে থেকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত যেটি ভবিষ্যতে অনেক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন যে থ্যালাসেমিয়া, বর্ণান্ধতা, বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি সমস্যা মানুষের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের সহজেই সঞ্চারিত হতে পারে। এ সকল রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অবশ্যই বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট করে নেওয়া প্রয়োজন। যদিও আমরা বাস্তবে দেখি অনেকেই এই ধরনের কাজে আগ্রহণ নয় তবুও কিছু পরীক্ষা রয়েছে যেগুলো অবশ্যই করে নেওয়া দরকার।

বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট

সবার আগে প্রয়োজন বর এবং কনের ব্লাড পরীক্ষা। এই ব্লাড টেস্টে ব্লাড কাউন্ট, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস কিংবা ইত্যাদি বিষয়াদি আছে কিনা তা জেনে নিতে হবে। যদি রক্তে কোনরকম সমস্যার ইঙ্গিত থাকে তাহলে আগে থেকেই সমাধান করে নেওয়া ভালো।

জেনেটিকস পরীক্ষা

ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার কিংবা কিডনির সমস্যা লুকিয়ে আছে কিনা তা জেনে নেওয়া ভালো। আগে থেকেই পরীক্ষা করে নিলে সমস্যা বাড়ার আগে কিংবা আরেকজনের দেহে সেই ভাইরাস পড়ে প্রবেশ করার আগেই চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

বিভিন্ন ধরনের যৌনরোগ

আমরা জানি এই ধরনের রোগ গুলো শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের ছড়ায়। তাই এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি জাতীয় রোগ থাকলে তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো। তা না হলে ভবিষ্যতের সংক্রমণ এবং বাচ্চাদের মধ্যেও এটি ছড়িয়ে যেতে পারে।

বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্টগুলোর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রজনন ক্ষমতা সংক্রান্ত পরীক্ষা। বর্তমানে মানুষের অস্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক দুশ্চিন্তা ইত্যাদির কারণে ইনফার্টিলিটির সমস্যা বেশ তীব্র আকার ধারণ করেছে। যেটা কিনা পরবর্তীতে শারীরিক সমস্যা মানসিক সমস্যা এবং সামাজিক সমস্যাও ডেকে আনতে পারে। তাই বর এবং কোনায় উভয়েরই ফার্টিলিটি পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

এছাড়াও রক্তের ভিটামিন ডি এর মান, হাড়ের ঘনত্ব ইত্যাদি ভবিষ্যতে সমস্যায় ফেলতে পারে। তাই একজন ভালো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার অধীনে বিভিন্ন টেস্টগুলো করিয়ে নিয়ে বর এবং কোন দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে নেই য়া এবং কোন সমস্যা থাকলে সেটা চিকিৎসা আগে থেকেই করলে ভবিষ্যতে উভয়ের জন্য ভালো হয়।

যেহেতু বর্তমান সময় বিভিন্ন রোগের প্রকম বেড়েই চলছে তাই বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট করা খুবই জরুরী। এতে করে রোগের সঞ্চরণ যেমন বন্ধ হয়ে যাবে ঠিক তেমনিভাবে ভবিষ্যৎ জীবন অনেকটাই সুখের হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিয়ের আগে যে সকল মেডিকেল টেস্ট করা জরুরী

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বিয়ের প্রস্তুতি বলতে আমরা কেনাকাটা, আত্মীয়স্বজন দাওয়াত, খাবারের আয়োজন ইত্যাদিকেই বুঝি। কিন্তু বর্তমানে অনেক সচেতন মানুষদের মধ্যে বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট নিয়েও বেশ আগ্রহ রয়েছে। কারণ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে আগে থেকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত যেটি ভবিষ্যতে অনেক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন যে থ্যালাসেমিয়া, বর্ণান্ধতা, বন্ধ্যাত্ব ইত্যাদি সমস্যা মানুষের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের সহজেই সঞ্চারিত হতে পারে। এ সকল রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অবশ্যই বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট করে নেওয়া প্রয়োজন। যদিও আমরা বাস্তবে দেখি অনেকেই এই ধরনের কাজে আগ্রহণ নয় তবুও কিছু পরীক্ষা রয়েছে যেগুলো অবশ্যই করে নেওয়া দরকার।

বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট

সবার আগে প্রয়োজন বর এবং কনের ব্লাড পরীক্ষা। এই ব্লাড টেস্টে ব্লাড কাউন্ট, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস কিংবা ইত্যাদি বিষয়াদি আছে কিনা তা জেনে নিতে হবে। যদি রক্তে কোনরকম সমস্যার ইঙ্গিত থাকে তাহলে আগে থেকেই সমাধান করে নেওয়া ভালো।

জেনেটিকস পরীক্ষা

ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার কিংবা কিডনির সমস্যা লুকিয়ে আছে কিনা তা জেনে নেওয়া ভালো। আগে থেকেই পরীক্ষা করে নিলে সমস্যা বাড়ার আগে কিংবা আরেকজনের দেহে সেই ভাইরাস পড়ে প্রবেশ করার আগেই চিকিৎসা করিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

বিভিন্ন ধরনের যৌনরোগ

আমরা জানি এই ধরনের রোগ গুলো শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের ছড়ায়। তাই এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি জাতীয় রোগ থাকলে তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো। তা না হলে ভবিষ্যতের সংক্রমণ এবং বাচ্চাদের মধ্যেও এটি ছড়িয়ে যেতে পারে।

বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্টগুলোর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রজনন ক্ষমতা সংক্রান্ত পরীক্ষা। বর্তমানে মানুষের অস্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক দুশ্চিন্তা ইত্যাদির কারণে ইনফার্টিলিটির সমস্যা বেশ তীব্র আকার ধারণ করেছে। যেটা কিনা পরবর্তীতে শারীরিক সমস্যা মানসিক সমস্যা এবং সামাজিক সমস্যাও ডেকে আনতে পারে। তাই বর এবং কোনায় উভয়েরই ফার্টিলিটি পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

এছাড়াও রক্তের ভিটামিন ডি এর মান, হাড়ের ঘনত্ব ইত্যাদি ভবিষ্যতে সমস্যায় ফেলতে পারে। তাই একজন ভালো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার অধীনে বিভিন্ন টেস্টগুলো করিয়ে নিয়ে বর এবং কোন দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে নেই য়া এবং কোন সমস্যা থাকলে সেটা চিকিৎসা আগে থেকেই করলে ভবিষ্যতে উভয়ের জন্য ভালো হয়।

যেহেতু বর্তমান সময় বিভিন্ন রোগের প্রকম বেড়েই চলছে তাই বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট করা খুবই জরুরী। এতে করে রোগের সঞ্চরণ যেমন বন্ধ হয়ে যাবে ঠিক তেমনিভাবে ভবিষ্যৎ জীবন অনেকটাই সুখের হবে।