কলেজের দরখাস্ত লেখার নিয়ম

- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ১০২ বার পড়া হয়েছে
যেকোনো অফিসিয়াল বা প্রতিষ্ঠানের কাজ সহজে এবং সম্মানের সাথে করার জন্য কলেজের দরখাস্ত লেখার নিয়ম জানা খুবই জরুরী। সঠিক প্রাপক, পরিষ্কার বিষয়, পূর্ণ পরিচয়, ভদ্র ভাষা এবং সংক্ষিপ্ত কারণ সহকারে দরখাস্ত লিখলে সেটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হয়। তাই আজকের লেখাটি পড়ে আপনি যেকোনো ধরনের অ্যাপ্লিকেশন লেখা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেয়ে যাবেন।
কলেজে দরখাস্ত লেখার নিয়ম
ছুটি চাওয়া, ফি জমা দেওয়া, সময় বাড়ানো, সার্টিফিকেট উঠানো কিংবা অন্য যে কোন অনুমতি নেওয়ার জন্য অবশ্যই লিখিত একটি দরখাস্ত জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয়। একটি অ্যাপ্লিকেশনের মূল শক্তি হলো এর পরিষ্কার কাঠামো এবং অত্যন্ত মার্জিত ভদ্র ভাষা। আজকে আমি স্টেপ বাই স্টেপ জানিয়ে দিচ্ছি কিভাবে দরখাস্ত লিখবেন।
আবেদনপত্র ও দরখাস্তের মধ্যে পার্থক্য কি
শুরুতেই আমাদেরকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির সম্পর্কে বোঝা প্রয়োজন। সহজ কথায় দরখাস্ত এবং আবেদনপত্র একই ধরনের জিনিস। কাজের দিক থেকে দুটো একই রকম। তবে অ্যাপ্লিকেশন বা দরখাস্ত শব্দটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হয়। আবার বিভিন্ন অফিসিয়াল এবং ফরমাল কাজে আবেদনপত্র শব্দটি বেশি ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কলেজে হতে সার্টিফিকেট উত্তোলন কিংবা ছুটির জন্য প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই দরখাস্ত লিখবেন। আবার অফিসিয়াল কোন কাজ সেটি হতে পারে বৃত্তি কিংবা ভর্তির সংক্রান্ত তাহলে দেখবেন আবেদনপত্র।
কলেজের দরখাস্ত লেখার সঠিক কাঠামো
অফিসিয়াল সকল কাজকর্ম একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা কাঠামো মেনে করতে হয়। এতে করে দরখাস্ত যেমন সুন্দর হয় সে ঠিক একইভাবে পরিষ্কার এবং গ্রহনযোগ্য হয়। চলুন সেই কাঠামো গুলো জেনে নেই।
প্রাপক অংশ
প্রথমে উল্লেখ করতে হবে যাকে উদ্দেশ্য করে দরখাস্ত বা আবেদন পত্রটি লিখছেন তার পদবী। তারপর সেই কলেজের নাম এবং পরের লাইনে ঠিকানা।
উদাহরণ,
বরাবর,
সহকারী হেডমাস্টার
আদর্শ সরকারি কলেজ, বরিশাল
আবেদনপত্রের বিষয়
এরপরে এক লাইনে লিখতে হবে দরখাস্ত বা আবেদন পত্রের মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে লাইনটি অযথা বড় করা যাবে না কিংবা অপ্রয়োজনীয় শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
উদাহরণ
বিষয়: এইচএসসি সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য আবেদন।
সম্মোধন
যাকে উদ্দেশ্য করে আবেদনপত্র বা দরখাস্তটি লিখছেন তাকে সম্বোধনস্বরূপ জনাব অথবা মহোদয় ব্যবহার করতে পারেন। তবে তার পদবী অনুযায়ী অন্যান্য অনেক শব্দ ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে শব্দটি সর্বোচ্চ মার্জিত হতে হবে।
দরখাস্তের মূল বক্তব্য
এই অংশে লিখতে হবে মূল দরখাস্ত টি। এক্ষেত্রে অবশ্যই আবেদনকারীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় লিখতে হবে। কারনটিও যথাসম্ভব সংক্ষেপে লিখতে হবে এবং অতিরিক্ত কোন গল্প কিংবা শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
উদাহরণ
আমি আপনার কলেজের একজন বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। আমার রোল নম্বর ১২৩৪ এবং সেশন ২৩-২৪। অনার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আমার এইচএসসি সার্টিফিকেটটি উত্তোলন করা প্রয়োজন।
প্রার্থনা
এই শেষ অংশে অনুরোধের সহিত এক লাইনে পরিষ্কার ভাবে বলুন যে আপনার আসলে কি চাই। উদাহরণস্বর
অতএব আমাকে উক্ত সার্টিফিকেটটি প্রদান করলে কৃতজ্ঞ থাকব।
সমাপ্তি অংশ
আবেদনপত্র শেষে ধন্যবাদ দিয়ে নিজের তথ্যগুলি ধাপে ধাপে উল্লেখ করুন।
উদাহরণ
বিনীত নিবেদক
নাম: রহমান মিয়া
রোল: ১২৩৪
বিভাগ: বিজ্ঞান
সেশন ২০২৩-২৪
তারিখ: ____
কলেজে দরখাস্ত লেখার নিয়ম ও ভাষা
যেকোনো তার আবেদন পত্রেরই ভাষার সাধারণত বিনয়ী এবং প্রাঞ্জল হওয়া প্রয়োজন। কঠিন শব্দ, অভিযোগের টোন, রাগ ব্যবহার করা উচিত নয়। এপ্লিকেশনটি পড়লে যেন বোঝা যায় আপনি খুবই সাধারণ এবং ভদ্রভাবে প্রয়োজনের কথা জানিয়েছেন। এমনকি শুধুমাত্র ভাষার সঠিক না হওয়ার কারণে অ্যাপ্লিকেশন বাতিল হয়ে যেতে পারে।
ছুটি চাওয়ার দরখাস্ত লিখবেন কিভাবে
যে কোন স্কুল, কলেজ অথবা প্রতিষ্ঠানে ছুটির চেয়ে অ্যাপ্লিকেশনটি সবচাইতে বেশি দরকার হয়। তবে প্রতিষ্ঠান যে ধরনের হোক না কেন নিয়ম অনেকটা একই। পারিবারিক সমস্যা অসুস্থতার জরুরি কোন কাজের ক্ষেত্রে সাধারণত ছুটি চাওয়ার প্রয়োজন হয়।
এ সকল ক্ষেত্রে উপরের সকল নিয়ম ঠিকই থাকবে এবং শুধুমাত্র কারণের অংশটি পরিবর্তিত হবে। সেই সাথে উল্লেখ রাখতে হবে কত তারিখ বাবার থেকে কত তারিখ বা বার পর্যন্ত আপনার ছুটি প্রয়োজন।
উদাহরণ আমি আগামী ৭ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত পারিবারিক কারণে ক্লাসে বা অফিসে অনুপস্থিত থাকবো।
এছাড়াও সার্টিফিকেট উত্তোলন, ফি মওকুফ কিংবা সময় বাড়ানোর প্রয়োজনে আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। এক্ষেত্রে যদি যথাযথ ভাষায় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যায় তাহলে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই আপনার সমস্যার সমাধানের সচেষ্ট হবেন।
শুধুমাত্র আবেদনপত্রে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হবে আর্থিক সমস্যার কারণে ফি জমা দিতে পারেননি অথবা আগামী মাসে সম্পূর্ণ ফি জমা দিব। তাহলে অফিস ধরে নেবে আপনি এ ব্যাপারে যথেষ্ট সিরিয়াস এবং সচেষ্টা এবং সচেষ্ট। তাই তারা আবেদন মঞ্জুর করে দিতে পারে।
আবেদনপত্র লেখার ক্ষেত্রে যে ভুল করে থাকি
কলেজে দরখাস্ত লেখার নিয়ম তো আমরা জানলাম এবার জানব এই ধরনের আবেদন পত্র লেখার ক্ষেত্রে যে সাধারণ ভুলগুলো আমাদের দ্বারা হয়ে থাকে তার সম্পর্কে।
প্রথম ভুলটি হয় প্রাপকের সঠিক পদবী না লেখা। অনেক সময় অধ্যক্ষ, প্রিন্সিপাল, সহকারি প্রিন্সিপাল, হেডমাস্টারের মধ্য ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বগত প্রধানের পদবী জেনে নিবেন।
দ্বিতীয়তঃ বিষয়গুলি এলোমেলো ভাবে লিখা। আবার অহেতুক কথা রেখে দরখাস্ত বড় করা। কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন বা দরখাস্ত এর একটি ফরমেটি হচ্ছে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করতে হবে।
নিজের পরিচয় কখনো অসম্পূর্ণ রাখা যাবে না। নাম, রোল নম্বর, শ্রেণী, শাখা, সেশন সকল তথ্য সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। যাতে করে আপনার আবেদনটি প্রক্রিয়া করতে খুব বেশি বেদ না পেতে হয়।
আমাদের শেষ কথা
কলেজে দরখাস্ত লেখার নিয়মের এই লেখাটি প্রয়োজনের সেভ করে রাখতে পারেন। এতে করে প্রয়োজনের সময় আপনার অ্যাপ্লিকেশনটি এই চেকলিস্টের সাথে মিলিয়ে নিতে পারবেন। তাহলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
আসলে কোন আবেদনপত্র লেখায় কঠিন কিছু নয়। যদি নিয়মিত এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশন লেখার প্রয়োজন হয় তাহলে কয়েকদিন অভ্যাস করলে সব ভালোভাবে বোঝা যাবে। দরখাস্ত শুধুমাত্র কাগজের একটি লেখা নয় বরং আবেদনকারী শিষ্টাচার এবং দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশও করে। তাই এটি লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

















